২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

চার লাখ মানুষের বিক্ষোভে চাপে ম্যাখোঁ সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬
চার লাখ মানুষের বিক্ষোভে চাপে ম্যাখোঁ সরকার ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন চার লাখের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে অংশ নেন প্রায় চার লাখ ১০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন প্রায় এক লাখ ১০ হাজার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি।

প্যারিসে মিছিলের শেষ পর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। মার্সেই ও লিয়নসহ আরও কয়েকটি শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভের মূল কারণ শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়।

শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সময়ের সঙ্গে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে সরকারি পরিষেবার মান, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা আরও শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তবে বৈঠকের পরও অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করে সরকার। দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় চলাচল ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তারপরও সব জায়গায় পরিস্থিতি শান্ত রাখা সম্ভব হয়নি।

সরকারের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করা হচ্ছে।

এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। ডানপন্থী নেতা মেরিন ল্য পেন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের নিরাপত্তানীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক অসন্তোষের মূল কারণগুলোর সমাধান না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সরকারি পরিষেবার সংকট নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে ম্যাখোঁ সরকারের ওপর চাপও বাড়ছে। নিরাপত্তা জোরদার করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও মানুষের অসন্তোষের স্থায়ী সমাধান ছাড়া স্বাভাবিক



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ